যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার বাইরে গতকাল রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও অর্থনীতিবিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আরোপিত শুল্ক এবং আমাদের যে বাণিজ্যের ধরন ও গঠন তার ওপর ভিত্তি করে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত হবেন এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য। প্রধান উপদেষ্টার বিশ্বব্যাপী যে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা সেটিকে কাজে লাগিয়ে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেব।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনব। আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো আমদানি করি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি আরো বাড়ানোর চিন্তা আছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে, সেখান থেকে আমদানি বৃদ্ধির জন্য আমরা তাদের উৎসাহ দেব। যেন বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসে। যেটি সার্বিকভাবে আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে।’
ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের শুল্ক বেশি হলেও সমস্যার কিছু নেই উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্য ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি। ফলে আমরা সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে এগিয়ে থাকব।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা (পাল্টা শুল্কারোপ) আমাদের জন্য আকস্মিক কোনো বিষয় নয়, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সংযোগ করতে বলেছিলেন। সেই সূত্রে আমি নিজে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ, ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেই থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আমরা ক্রমাগত এ বিষয়ে আলোচনা করে আসছি। সুতরাং ব্যাপারটা আকস্মিক নয়, আমরা এর জন্য প্রস্তুত এবং আমরা শিগগিরই কিছু ব্যবস্থা নেব। সেটা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ করেই নেব। সুতরাং এখানে ভয় পাওয়ার, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
ব্রিফিংয়ের আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান; পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন; বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন; প্রধান উপদেষ্টার হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান; প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী; বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর; প্রধান উপদেষ্টা মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া; এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ; অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার; এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান; বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার।